জিতলো রাজস্থান, মোস্তাফিজও জিতলেন

15
Spread the love

আগের ম্যাচে যা পারেননি সাঞ্জু স্যামসন, আজ দিল্লির বিপক্ষে সেটাই করে দেখালেন ক্রিস মরিস। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১২ রান। দুই ছক্কা আর দুই রান নিয়ে রাজস্থানকে হারের বৃত্ত থেকে বের করে আনলেন মরিস। ৩ উইকেটের যে জয় কেবল রাজস্থানেরই নয়, জয় বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমানেরও! পাঞ্জাবের বিপক্ষে আগের ম্যাচে স্যামসন ১১৯ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেও দলকে জেতাতে পারেননি। স্যামসনের না পারা, মোস্তাফিজের সুযোগ হাতছাড়া, সবমিলিয়ে ৪ রানের হারে স্যামসন-মোস্তাফিজের সেই ম্যাচে বেদনা বিধুর রাত কেটেছে!

আজ অবশ্য দৃশ্যপট পাল্টে গেছে পুরোপুরি। দীর্ঘদিন পর পুরনো মোস্তাফিজকে দেখা গেলো। দিল্লি ক্যাপিটালসের ব্যাটসম্যানদের একের পর এক কাটার, স্লোয়ারে পরাস্ত করেছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার। কেবল মোস্তাফিজ নন, রাজস্থানের পেসার জয়দেব উনাদকাটের বোলিংয়েও ১৪৭ রানে থেমেছে দিল্লি।সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হারের পথে ছিল রাজস্থান! ৮ নম্বরে নামা ক্রিস মরিস ১৮ বলে ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৩৬ রানের ওমন ঝড়ো ইনিংস না খেলতে ম্যাচটি দিল্লিরই হতো।

৪২ রানে টপ অর্ডারের ৫ উইকেট হারানো রাজস্থান হারই দেখছিল একটা সময়। ডেভিড মিলার ও রাহুল তেওয়াতিয়া মিলে ৬ষ্ঠ উইকেটে ৪৮ রানের জুটি গড়েন। ওই জুটিতে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দিলেও ম্যাচ নিজেদের করতে পারেনি রাজস্থান। এক প্রান্ত আগলে রেখে মিলার খেলেছেন ৪৩ বলে ৬২ রানের ইনিংস। ৭ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি খেলে মিলার যখন বিদায় নেন, দলের রান তখন ১০৪। তখনো ২৫ বলে ৪৪ রান প্রয়োজন। প্রথম ১৩ বলে ক্রিস মরিস ও জয়দেব উনাদকাটের ভালো কিছু করতে পারেননি। শেষ দুই ওভারেই ঝড় তোলেন তারা। অবশ্য ঝড়টা বেশি তুলেছেন মরিসই। খেলেছেন ১৮ বলে ৩৬ রানের টর্নেডো ইনিংস। রাজস্থান ৭ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে ১৯.৪ ওভারে।

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ধীর স্থির করে দিল্লি ক্যাপিটালস। পাওয়ার প্লের মধ্যেই উনাদকাট সাজঘরে ফেরান শিখর ধাওয়ান, পৃথ্বি শ ও আজিঙ্কা রাহানেকে। মাঝে দিল্লির অধিনায়ক ঋষভ পান্ত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। ললিত যাদবকে সঙ্গে নিয়ে ৫১ রানের জুটি গড়েন। ৩২ বলে ৯ চারে ৫১ রানের ইনিংস খেলে দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের শিকার হন পান্ত। দিল্লির হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আসে ললিত যাদবের ব্যাট থেকে, ১৬ বলে ২১। ললিতের চেষ্টায় দিল্লির ইনিংস গিয়ে দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৪৭ রানে।

আজকে মোস্তাফিজুর সপ্তম ওভারে নিজের প্রথম ওভার বল করতে এসেই ৫ বলে শূন্য রানে ক্রিজে থাকা স্টোয়নিসকে জস বাটলারের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান। নিজের দ্বিতীয় ওভারেও উইকেট পেতে পারতেন মোস্তাফিজ। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে থাকা রায়ান পরাগ ক্যাচ নিতে না পারায় সেটি হয়নি। অবশ্য এর কিছুক্ষণ পরই রান আউটের শিকার হন দিল্লির অধিনায়ক। ১৭ ও ১৯তম ওভারে মোস্তাফিজ তৃতীয় স্পেল দিয়ে কোটা পূর্ণ করেন। ওই দুই ওভারে ২০ রান দিয়ে তুলে নেন একটি উইকেট। সবমিলিয়ে ৪ ওভার বোলিং করে ২৯ রান খরচায় মোস্তাফিজের শিকার দুই উইকেট। ১৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে রাজস্থানের সেরা বোলার জয়দেব উনাদকাট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here