ভারতে একদিনে রেকর্ড ২ লাখ ৬১ হাজার করোনা শনাক্ত

12
Spread the love

ভারতে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। রবিবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও দুই লাখ ৬১ হাজার ৫০০ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত এটিই দেশটিতে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের ঘটনা। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৫০১ জনের।

গত বৃহস্পতিবার থেকেই ভারতে দৈনিক সংক্রমণ দুই লাখের বেশি। গত দেড় বছরে এক দিনে এতো বেশি সংখ্যক মানুষের শনাক্ত হওয়ার কোনও রেকর্ড নেই। আর এখন প্রতিদিনই ভাঙ্গছে আগের দিনের রেকর্ড।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, করোনা শনাক্তের সংখ্যায় বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের পরই দেশটির অবস্থান। দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট এক কোটি ৪৭ লাখ ৮৮ হাজার ১০৯ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ৭৭ হাজার ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, গত ৯ মার্চ ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দৈনিক মৃতের সংখ্যা কমে ৭৭-এ নেমেছিল। কিন্তু এর দেড় মাসেরও কম সময়ের মাথায় দৈনিক মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়াতে শুরু করে।

এমন পরিস্থিতিতে শনিবার ভ্যাকসিন উৎপাদন বাড়িয়ে টিকাদান কর্মসূচিতে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রতিষেধকের জোগানে ঘাটতি নিয়ে এরইমধ্যে অভিযোগ করেছে একাধিক রাজ্য। তার মধ্যেও প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে ১২ কোটি ২৬ লাখ ২২ হাজার ৫৯০ জন টিকা নিয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে টিকা নিয়েছেন ২৬ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪৯ জন। আগের তুলনায় কোভিড টেস্টও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ৩৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

প্রায় সবগুলো রাজ্যেই দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন রাজ্যে শনাক্তের নতুন রেকর্ড হচ্ছে। সংক্রমণের নিরিখে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মহারাষ্ট্রের। পিছিয়ে নেই পশ্চিমবঙ্গও। ভোটের মৌসুমে হু হু করে এ রাজ্যে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা।

ভারতে একদিনে রেকর্ড ২ লাখ ৬১ হাজার করোনা শনাক্ত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামারি শেষ হয়ে গেছে মনে করে নেওয়া ভুল পদক্ষেপের মাশুল দিচ্ছে ভারত। ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের ইমিউন সিস্টেম গবেষক ড. ভিনেতা বাল বলেন, দীর্ঘমেয়াদী মহামারির বিষয়টি কেউ গুরুত্ব দেয়নি।

সেপ্টেম্বরে যখন নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করলো অনেকেই সিদ্ধান্ত নিলেন মহামারি শেষ হয়ে গেছে। মাস্ক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি সবাই ভুলে গেলেন। সরকারও ঝুঁকির বিষয়ে মিশ্র বার্তা দিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যখন আবার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করলো তখন কর্তৃপক্ষও দোটানায় পড়ে যায়। সরকারের দ্বিধামূলক অবস্থানের ফলে ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যর্থতা এসেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বেগজনক হারে সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ তিনি নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিয়ে বড় বড় জনসমাবেশ করেছেন, যেগুলোতে লাখো কর্মী-সমর্থক মাস্ক ছাড়াই উপস্থিত হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই মোদি সরকার হিন্দু ধর্মালম্বীদের উৎসব কুম্ভ মেলা উপলক্ষে লোকজনকে সমবেত হওয়ার অনুমতি দেয়। ফলে এই মেলাকে কেন্দ্র করে গঙ্গা নদীতে কয়েক লাখ পুণ্যার্থী অংশ নেন। এই আয়োজন করোনার সুপারস্প্রেডারে পরিণত হতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে রাজ্যটির বিজেপি দলীয় মুখ্যমন্ত্রী তিরাথ সিং রাওয়াত-এর দাবি, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের ফলে ভাইরাসের ভয় দূর হবে। সূত্র: আনন্দবাজার, হিন্দুস্তান টাইমস।

সুত্রঃ- https://www.banglatribune.com/

 

কোরানের 26 আয়াত গুলিতে নিয়ন্ত্রিত খারিজ,ওয়াসিম রিজভীকে 50000 টাকার জরিমানা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here