শিশুর চরিত্র গঠনে আমাদের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত

42
Spread the love

শিশুরা অনুকরণ প্রিয়।সামনের জন বা আশপাশের মানুষজন যা করছে বা বলছে সেও ঠিক তাই করার চেষ্টা করে।এভাবে তার চরিত্রের  মাঝে কিছু ভালো  ও কিছু খারাপ বৈশিষ্ট্য ঢুকে পরে।তবে ভালো বা খারাপ দুটোই পরিবার থেকে ছোটবেলা থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।আজ লিখছি কিভাবে শিশুর সামনে নিজেকে সংযত রাখবেন।সেটা হোক শিশুর সাথে আপনার ব্যবহারে বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে শিশুর সামনে আপনার ব্যবহারের মাধ্যমে।

★উচুঁ বা কর্কশ স্বরে কথা নয়

বাচ্চাদের সাথে কখনোই উচুঁ গলায়, কর্কশ স্বরে কথা বলা উচিত নয়। যখন শিশু সামনে থাকে তখন আপনার ভাষা ও গলার স্বরকে নিয়ন্ত্রণ করুন।শিশুদের সামনে আপনি যখন অন্যদের সাথে রূঢ় আচরণ করবেন তখন সেই ধরেই নেবে যে অন্যদের সাথে কথা বলার এটাই স্বাভাবিক ধরন।আমরা অনেক সময় নিজেদের রাগ বা বিরক্তি শিশুদের উপর ঝেড়ে থাকি।এটি খুব ভুল একটি আচরণ।নিজেদের ব্যক্তিগত সমস্যা গুলো শিশুদের সামনে প্রকাশ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

★শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন

আমরা অনেকেই শিশুরা কি বলতে চাইছে বা কেন বলছে এসব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাই না।বাচ্চা কিছু বলতে এলে তাকে সরিয়ে দিই বা পুরো কথা না শুনেই নিজেদের মতামত চাপিয়ে দিই।এটি কখনই করা যাবে না।মনে রাখতে হবে,শিশু তখনই আপনার কাছে আসবে যখন সে মনে করবে যে তার কথা শোনার জন্য আপনি আছেন,আপনি তার কথাকে গুরুত্ব দিবেন।যদি সে আপনার কাছে পাত্তা না পায়।তবে ভবিষ্যতে তার সমস্যা নিয়ে আপনার সাথে আলোচনা করবে না।তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুকে বোঝান যে,তার সব কথা শোনার জন্য আপনি প্রস্তুত।সে আপনার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন।

★শিশুর মতামতকে গুরুত্ব দিন

শিশুর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া মানে অনেকেই মনে করবেন যে শিশু যা বলছে তা মেনে নেওয়া। আসলে ব্যাপারটি তা নেয়।ধরুন,আপনি আপনার বাচ্চাকে আপনার পছন্দমতো একটি ড্রেস পরাতে চাইছেন।কিন্তু সে চাইছে অন্য একটি পরতে।হয়তো আপনার পছন্দ করা পোশাক তার ভালো লাগছে না।আপনি যদি এক্ষেত্রে জোর করে আপনার সিদ্ধান্তটি তার উপর চাপিয়ে দেন দেখবেন সে এক সময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।কিংবা নিজের উপর আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে।সুতরাং শিশুর মতামতকে গুরুত্ব দিন।দেখবেন জীবনের অনেক বড় বড় সমস্যার সমাধান সে খুব আত্মবিশ্বাসের সাথেই করছে। সামান্য পোশাক নির্বাচন থেকেই না হয় শুরু হোক আপনার শিশুকে আত্মবিশ্বাসী বানানোর প্রক্রিয়া।

★ইতিবাচক চিন্তাভাবনা

শিশুদের মন মানসিকতা ও চিন্তা-ভাবনার উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও পরিবার।পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের চিন্তা ভাবনা,আদর্শ,নীতি ইত্যাদি শিশুদের আচরণ গঠনে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।দেখা যায়,একটি পরিবারের সদস্যদের মাঝে যদি বই পড়ার অভ্যাস থাকে তবে ঐ পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুগুলোর মধ্যেও বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। আবার যে সকল পরিবারে সবসময় ঝগড়াঝাটি হয় সেসব পরিবারের শিশুগুলোও মারামারি,ঝগড়াঝাটি পছন্দ করে।তাই পরিবারের সকল সদস্যদের উচিত নিজেরা সংযত হয়ে চলা ও শিশুদের সাথে ইতিবাচক আচরন করা।

★শব্দ নির্বাচনে সতর্কতা

আমরা অনেকেই জানি না কোন শব্দ,কোন কথা  বলা কোন প্রসঙ্গ শিশুর সামনে বলা যাবে আর কোনগুলি বলা যাবে না।প্রথমত,শিশুর সামনে কারো ব্যাপারে খারাপ বা বাজে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।শিশুরা ভালো-খারাপের তফাৎটা সাথে সাথে না বুঝলেও এটা বুঝে যায়, যে একটা মানুষের ব্যাপারে এমন কথা বলা যায়।মনে করুন,আপনার বাচ্চা একটু স্বাস্থ্যবান।ফলে স্কুলে বা খেলার মাঠে অন্য বাচ্চারা তাকে Bullying করে বা ক্ষ্যাপায়।এখন বলুন,স্বাস্থ্য ভালো হওয়া কি দোষের কিছু? মোটেই না।তাহলে অন্য বাচ্চাগুলো কেন এটাকে খারাপ দৃষ্টিতে নিয়ে আপনার বাচ্চাকে বিরক্ত করছে?দোষটা আমাদের। আমরা শিখিয়েছি,মোটা মানে খারাপ। শুকনো মানে পাটকাঠি। আমরাই বাচ্চাদের সামনে অন্য একজনের বাচ্চার কথা খারাপ বলেছি।আমাদের বাচ্চাও তাই শিখেছে। তাই,শিশুর সামনে কথা বলুন সংযত হয়ে। এমন কোন শব্দ ব্যবহার করবেন না যেটার অর্থ বুঝিয়ে দিতে আপনাকেও ভাবতে হবে দুবার।

★শিশুর কাজের প্রশংসা করুন ও উৎসাহ দিন

শিশুর যে কোন কাজকে প্রশংসা করুন।ভবিষ্যতে আরো ভালো করার উৎসাহ দিন।ভুল হোক বা যাই হোক,আপনার উৎসাহ তাকে কাজের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।

★তুলনা করবেন না

অনেক সময় আমরা শিশুদেরকে অন্য শিশুর সাথে তুলনা করি।সেটা হতে পারে নিজের ভাই-বোন বা খেলার মাঠের সঙ্গী বা অন্য যে কেউ।যেমনঃ “তুমি কেন দুষ্টুমি করছো? দেখ,বোন কতো শান্ত হয়ে বসে আছে। কিংবা তুমি খুব খারাপ, খেতে চাও না।দেখ,তোমার বন্ধু কি সুন্দর খেয়ে নিচ্ছে।“ আপনি অনেক বড় ভুল করছেন।তুলনা করে আপনি তার মনে বোন ও বন্ধুর প্রতি হিংসে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। তার মনে ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছেন। মনে রাখবেন প্রতিটি শিশু একজন অন্য জন থেকে আলাদা।তাদের চাহিদা,মনমানসিকতাও ভিন্ন।সুতরাং, তুলনা নয়।বুঝতে ও বোঝাতে চেষ্টা করুন।

★শাসনকে বাদ দিবেন না

আদরের পাশাপাশি শাসনের গুরুত্বও কম নয়।শিশুর অযথা বায়না,রাগারাগি ও জেদকে প্রশ্রয় দিবেন না।প্রথমেই বকাঝকা নয়।বুঝিয়ে বলুন।বুঝতে না চাইলে কড়া স্বরে আপনার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিন।চাওয়া মাত্র জেদ পূরণ করবেন না।তখন সে ধরে নিবে যে,আপনি তার জেদকে সমীহ করেন।তাই তাকে বুঝতে দিন,You are the Boss.

শিশুরা কাদামাটির মতো।ছোট থেকে তাদেরকে যেমন ইচ্ছে তেমন করে গড়ে নেয়া যায়। তাই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন ও আপনার শিশুকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন।

ধন্যবাদ

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here