গরমের সুস্থ থাকার জন্য গরমের সাথে মোকাবিলা কিভাবে করবো

43
Spread the love
গরমের সাথে মোকাবিলা

সামনেই বৈশাখ,কাঠফাটা রোদ্দুর আর গলা শুকিয়ে চৌচির হওয়ার সময়। প্রকৃতির মৃদুমন্দ বাতাসটাও যেন আগুনের হলকা দিয়ে যায়। গায়ে যেন সুতোটি রাখাও দায়।ইচ্ছে না থাকলেও যেতে হচ্ছে ঘরের বাহিরে।

আসুন জেনে নিই কি করে এই গরমে নিজেকে মানিয়ে নেয়া যায়  ও সুস্থ থাকা যায়।

★পোশাক নির্বাচনঃ

প্রথমেই আসি পোশাক নির্বাচনে।গরম মানে সুতি।আর সুতি মানেই আরাম।আপনি যাই পরুন না কেন,আপনাকে প্রাধান্য দিতে হবে আপনার আরামকে এবং পাশাপাশি পোশাকটি কতটা স্বাস্থ্যসম্পন্ন। গরমে চলাফেরার জন্য সুতি কাপড়ের জুরি মেলা ভার।এটি শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখে সাথে শরীর থেকে বের হওয়া ঘাম শোষণে সহায়তা করে।গরমের দিনে হালকা ডিজাইনের সুতি কাপড় আপনাকে দিতে পারে শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি।গরমের পোশাক হওয়া উচিত ঢিলেঢালা,যাতে করে হাত-পা নাড়াতে সমস্যা না হয়।ঘরে থাকলে মহিলারা ম্যাক্সি বা ঢিলে ফতুয়া পরতে পারেন।

এছাড়া পালাজ্জো,কাফতান,টি-শার্ট বাইরে বা কাজের ক্ষেত্রে বেশ জনপ্রিয়।আঁটসাঁট পোশাক শরীরের জন্য ক্ষতিকর।এটি শরীরের রক্ত চলাচলে বাঁধা দান করে।গরমে পোশাক নির্বাচন করাটা ছোট,বড়,মাঝ বয়সী এবং বয়স্কদের জন্যও জরুরি।ছোট বাচ্চাদের সুতি কাপড়ের তৈরি নিমা,ফতুয়া,ফ্রক,স্লিভলেস শার্ট ইত্যাদি পরানো যায়।

★খাবার নির্বাচনঃ

এবার আসি খাবারের প্রসঙ্গে।গরমে আমাদের শরীরের প্রথম চাহিদা হলো পানি।অত্যোধিক গরমে ঘামের সাথে আমাদের শরীর থেকে অনেক দরকারী দেহ উপাদান বেরিয়ে যায়। যার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয় ও দুর্বলতার সৃষ্টি হয়।এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় হলো প্রচুর পরিমানে বিশুদ্ধ পানি পান করা,রসালো ফলমূল যেমনঃ তরমুজ,ফুটি,মাল্টা ইত্যাদি বেশি পরিমাণে খাওয়া। পানির পাশাপাশি ডাবের পানি,লেবুর শরবত বা ওরাল স্যালাইনও পান করা যেতে পারে।গরমে অতিষ্ট হয়ে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান করা উচিত নয়।এতে সর্দি-কাশির সম্ভাবনা থাকে। তেলেভাজা বা বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার একেবারেই খাওয়া যাবে না।এসব খাবার বদহজম,গ্যাস্ট্রিক ও আলসারের মতো রোগের জন্ম দেয়।

★বাহ্যিক সচেতনতাঃ

যত গরমই হোক না কেন আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেমে থাকে না।প্রতিনিয়তই আমরা ঘরে থেকে বাইরে বের হই।যদি একটু সচেতন হই তবে এই গরম থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে সহজেই।ঘর থেকে বের হওয়ার আগে অবশ্যই গোসল করে বের হবেন।এতে আপনি সতেজ অনুভব করবেন।এরপর আপনার শরীরের উন্মুক্ত স্থান গুলোতে হালকা করে সানস্ক্রিন বা সানবার্ন লোশন লাগিয়ে বের হোন। অবশ্যই আপনার সাথে এক বোতল পানি,ছাতা ও রুমাল/টিস্যু নিতে ভুলবেন না।এখন যেহেতু করোনাকালীন সময় তাই মাস্ক ও স্যানিটাইজার সাথে রাখাও আপনার জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে।বাইরে গেলে যথা সম্ভব রোদ এড়িয়ে চলুন।

যদি রোদে যেতেই হয়,ছাতা তো আছেই।কে কি ভাবলো না ভেবে মাথার উপর মেলে ধরুন। আরেকটি বিষয়,যেটিকে আমরা ধর্তব্যের মধ্যেই আনিনা,সেটি হল জুতোর ব্যাপারটা।গরমে শুধু শরীর ঘামে তা কিন্তু নয় পায়ের উপরও ধকলটা কম যায় না। এই গরমে যদি আপনি,সু-মোজা পরে বের হন তাহলে দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার পায়ের গরম মাথায় উঠে গেছে।তাই হালকা কাপড়ের পা ঢাকা জুতো ব্যবহার করুন যাতে আপনার পা রোদে পুড়ে না যায় আবার পায়ের পাতাও ঘেমে না যায়।

★ঘরোয়া পরিচর্য়াঃ

গরমের সময় খুব বেশি দরকার না হলে ঘরে থাকাই ভালো। গরমে অতিরিক্ত পানি ঘাম আকারে শরীর থেকে বের হয়ে যায় বলে এ-ই সময় শরীর খুব দুর্বল থাকে।তাই বাড়িতে থেকে বিশ্রাম নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।ঘরে বসে চুল,ত্বক পাশাপাশি পুরো শরীরের যত্ন নেয়া যায়।এছাড়া ছাদ বাগান করা,বই পড়া,গঠনমূলক কাজে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমেও নিজেকে সুস্থ রাখা যায়। আজকাল অনলাইন ব্যবসায় বেশ জনপ্রিয়। নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। নিজের পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ও যত্ন নিন।

★রাতের যত্নঃ

গরমের সময় দুবার গোসল করা খুব স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর।ঘুমানোর আগে গোসল করলে সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয় এবং ভালো ঘুম হয়। গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায় শিশুরা। তাদের প্রতি খেয়াল রাখাটা পরিবারের সকলের দায়িত্ব।রাতে ঘুমানোর আগে শিশুদের হাত-মুখ ধুয়ে দিয়ে, কাপড় পাল্টে ঘুম পাড়ানো উচিত।এর ফলে শিশু আরাম বোধ করে। এটি শিশুর বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।এছাড়া এটি খুব ভালো একটি অভ্যাস।

সব শেষে বলতে চাই,নিজে সুস্থ থাকুন,অন্যকে সুস্থ রাখুন। আপনার জানার পরিধি হোক আরো বিশাল।

Writer
Farhana Lima

News of Global 24

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here